বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নাম- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই নাম শুনলেই যে কোনো শিক্ষার্থীর চোখে এক ঝিলিক আলো জ্বলে ওঠে, যেন কোনো গর্ব আর আকাঙ্ক্ষার মিশ্রণ। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি আমাদের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও জ্ঞানচর্চার জীবন্ত প্রতীক। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এটি হয়ে উঠেছে জাতির মেধার উৎস এবং অগণিত স্বপ্নের সূতিকাগার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইউনিটই আলাদা এক জগত। এর মধ্যে গ ইউনিট (C Unit)-যা বর্তমানে “বাণিজ্য শিক্ষা অনুষদ” বা “Faculty of Business Studies” হিসেবে পরিচিত-তা হলো সেই ইউনিট, যেখানে দেশের ব্যবসায়িক নেতৃত্ব, আর্থিক বিশ্লেষক, প্রশাসক ও উদ্যোক্তারা গড়ে ওঠেন। যারা হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, ব্যাংকিং কিংবা মার্কেটিংয়ে আগ্রহী, তাদের কাছে গ ইউনিট এক অদম্য স্বপ্নের নাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিট মূলত বাণিজ্য বিভাগভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। এখান থেকেই বাংলাদেশের ব্যবসায় প্রশাসন শিক্ষা সবচেয়ে শক্ত ভিত পেয়েছে। একসময় দেশের বড় বড় কর্পোরেট নির্বাহী, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যাংকার বা অর্থনীতিবিদদের পেছনের শুরুটা এই অনুষদ থেকেই এসেছে।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হবে বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত, তবে কিছু আসনে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের যোগ্য প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন (বিষয়ভেদে শর্ত প্রযোজ্য)। এই ইউনিটের অধীনে পড়ানো হয় দেশের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন বিষয়গুলো- যেমন Accounting & Information Systems (AIS), Finance, Marketing, Management, Banking & Insurance, Management Information Systems (MIS), International Business, Tourism & Hospitality Management এবং Organization Strategy & Leadership। প্রতিটি বিভাগই আধুনিক ব্যবসা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠ্যক্রম সাজিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা সাধারণত দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়- বহুনির্বাচনী (MCQ) ও লিখিত পরীক্ষা। ২০২৪-২৫ সালের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালেও একই ধরণের কাঠামো বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সময়: মোট ৯০ মিনিট (৪৫ মিনিট MCQ + ৪৫ মিনিট লিখিত)।
মোট নম্বর: ১০০ (MCQ-৬০, লিখিত-৪০)।
ভুল উত্তরে: প্রতি ভুলে -০.২৫ নম্বর কাটা যাবে।
বিষয়বিন্যাস: বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায়নীতি ও প্রয়োগ, মার্কেটিং/ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ইত্যাদি।
MCQ অংশে সাধারণত ৬০টি প্রশ্ন থাকে, প্রতিটির মান ১। প্রশ্নগুলো ধারণাভিত্তিক হয়- যেমন ব্যাকরণ, ব্যবসায় ধারণা, বাজার বিশ্লেষণ, অর্থনীতির মৌলিক প্রশ্ন ইত্যাদি।
লিখিত অংশে ৪০ নম্বরের মধ্যে থাকে অনুবাদ, সংক্ষিপ্ত রচনা, ব্যবসায়িক বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন এবং ভাষাগত দক্ষতা যাচাই। লিখিত অংশেই শিক্ষার্থীর যুক্তি প্রকাশের ক্ষমতা, ভাষা ও উপস্থাপনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের পাশাপাশি SSC ও HSC GPA মিলে অতিরিক্ত ২০ নম্বর যোগ হয়, যার ভিত্তিতে তৈরি হয় মেধাতালিকা। সবমিলিয়ে মোট স্কোর দাঁড়ায় ১২০।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটের সিটসংখ্যা অন্যান্য ইউনিটের তুলনায় কম হলেও প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এই ইউনিটে প্রায় ১,০৫০টি আসন ছিল, যেখানে আবেদন করেছিল প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী- অর্থাৎ প্রতি সিটের জন্য প্রায় ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।
২০২৫-২৬ সালে সিট সংখ্যা প্রায় একই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় বিভাগগুলো হলো Accounting & Information Systems (AIS), Finance, এবং Marketing- যেখানে মেরিটলিস্টে আসার জন্য প্রায় ৮৫-৯০ নম্বরের ওপরে স্কোর প্রয়োজন হয়। তুলনামূলক কম প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিভাগগুলোতে ৬৫-৭৫ স্কোরেও সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সূচি (সম্ভাব্য)
ঢাবি ভর্তি এর সময়সূচি টেবিল দিয়ে দিচ্ছি,
বিষয় | তারিখ / সময় |
|---|---|
আবেদন শুরু | ২৯ অক্টোবর বেলা ১২ টা |
আবেদন শেষ | ১৬ নভেম্বর রাত ১১ঃ৫৯ |
আবেদন ফি | ১,০৫০ টাকা |
আবেদন ফি জমাদানের সময়সীমা | আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় পর্যন্ত |
ভর্তি পরীক্ষা | ১। কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট (১৩ ডিসেম্বর) ২। বিজ্ঞান ইউনিট (২০ ডিসেম্বর) ৩। ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট (০৬ ডিসেম্বর) ৪। চারুকলা ইউনিট (২৯ নভেম্বর) ৫। আইবিএ ইউনিট (২৮ নভেম্বর) সময় সকল ইউনিট: সকাল ১১টা বেলা সাড়ে ১২টা আইবিএ ইউনিট: সকাল ১০টা বেলা ১২টা |
প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু | ২৪ নভেম্বর ২০২৫ |
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট | |
আবেদন লিংক |
২০২৫ সালের ভর্তি পরীক্ষায় একটি আলোচিত বিষয় ছিল- গ ইউনিটের MCQ অংশে প্রশ্ন পুনরাবৃত্তির অভিযোগ। আদালতের নির্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনরায় MCQ পরীক্ষা নিতে হয়, যা অনুষ্ঠিত হয় ১৭ মে ২০২৫। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
ফলে ২০২৫-২৬ সেশনে কর্তৃপক্ষ আরও কঠোরভাবে প্রশ্ন প্রণয়ন, পরীক্ষার নিরাপত্তা ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি (OMR-scanning, digital moderation) অনুসরণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ ইউনিটের প্রস্তুতি কেবল মুখস্থবিদ্যা নয়, এটি বিশ্লেষণমূলক চিন্তা ও সময় ব্যবস্থাপনার পরীক্ষা। নিচে কয়েকটি বাস্তব প্রস্তুতি কৌশল দেওয়া হলো-
প্রতিদিন অন্তত ৩ ঘণ্টা সময় দাও-
১ ঘণ্টা MCQ অনুশীলন
১ ঘণ্টা লিখিত অনুশীলন
১ ঘণ্টা রিভিশন ও সাম্প্রতিক বাণিজ্য/অর্থনৈতিক খবর পড়া।
ঢাবির প্রশ্ন সাধারণত একই ধাঁচে চলে। গত ৫-৬ বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন, সময় বণ্টন ও গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
Accounting ও Business Policy অংশে নিয়মিত প্র্যাকটিস করো। ধারণাভিত্তিক প্রশ্ন বেশি আসে- তাই কনসেপ্ট ক্লিয়ার করাই মূল প্রস্তুতি।
লিখিত অংশে অনুবাদ, প্রেজ, রচনা-এসবের মান বাড়াতে প্রতিদিন ইংরেজি সংবাদ বা প্রবন্ধ পড়ো। বাংলায় সারাংশ ও অনুচ্ছেদ লেখার অনুশীলন করো।
প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২টি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দাও, সময় মেনে। দেখো কোন অংশে বেশি সময় লাগছে, কোথায় ভুল হচ্ছে- বিশ্লেষণ করো।
পরীক্ষার আগের রাতে বিশ্রাম নাও। আত্মবিশ্বাস রাখো, কারণ মানসিক চাপই পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় বাধা। ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রস্তুতি নিতে হলে, এখন থেকেই তোমার লক্ষ্য হতে হবে - “পরিকল্পিত অধ্যয়ন, ধারাবাহিক অনুশীলন, আর মনোবল বজায় রাখা।”
প্রস্তুতি শুরু করার আগে প্রথমেই জানতে হবে-গ ইউনিটের প্রশ্ন কেমন আসে, কোন বিষয় থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন হয়, আর কীভাবে সময় বণ্টন করতে হবে।
পরীক্ষার কাঠামো (সম্ভাব্য ২০২৫–২৬ অনুযায়ী):
মোট সময়: ৯০ মিনিট
MCQ অংশ: ৬০ নম্বর
লিখিত অংশ: ৪০ নম্বর
ভুল উত্তরে: -০.২৫
SSC + HSC ফলাফলের ভিত্তিতে: অতিরিক্ত ২০ নম্বর
বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বের ধরণ:
বিষয় | MCQ নম্বর | লিখিত নম্বর | মূল ফোকাস |
বাংলা | ১৫ | ১০–১৫ | শব্দার্থ, প্রবাদ, ব্যাকরণ, রচনা |
ইংরেজি | ১৫ | ১০–১৫ | Preposition, Tense, Translation, Passage |
হিসাববিজ্ঞান | ১০–১৫ | ৫–১০ | মৌলিক ধারণা, লেনদেন, সমীকরণ |
ব্যবসায়নীতি ও প্রয়োগ / ফাইন্যান্স / মার্কেটিং | ১৫ | ৫–১০ | বাস্তব প্রয়োগ, নীতি, বাজার বিশ্লেষণ |
ঢাবির প্রশ্নপত্রে একটা নির্দিষ্ট ধারা দেখা যায়। যদি তুমি গত ৫ বছরের প্রশ্ন সমাধান করো, তাহলে দেখবে - ৭০% প্রশ্নের ধরণ প্রায় একরকম।
🧠 কীভাবে বিশ্লেষণ করবে:
প্রতি বছর কোন টপিক থেকে বেশি প্রশ্ন এসেছে সেটি টেবিলে নোট করো।
প্রশ্নগুলোর মধ্যে সাধারণ পুনরাবৃত্তি চিহ্নিত করো।
প্রতিটি প্রশ্নের পেছনের ধারণা (Concept) বোঝো, শুধু উত্তর মুখস্থ করো না।
📘 উদাহরণ:
২০১৯–২০২৩ সালের গ ইউনিটের প্রশ্নে “Capital budgeting”, “Double entry system”, “Public finance”, “Translation (Bangla→English)” – এগুলো বারবার এসেছে।
বাংলা অংশে ব্যাকরণ, সাহিত্যজ্ঞান এবং অনুচ্ছেদ/রচনা আসে।
ব্যাকরণে ফোকাস: কারক, বচন, বাক্যরূপান্তর, উপসর্গ, অনুসর্গ
সাহিত্যে: রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, মুক্তিযুদ্ধ, আধুনিক সাহিত্য
লিখিত অনুশীলন: প্রতিদিন ১টি ছোট অনুচ্ছেদ লেখার অভ্যাস করো
✍️ Tip: তোমার লেখা যদি পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্ত হয়, পরীক্ষক স্বাভাবিকভাবেই ভালো নম্বর দেবেন।
এখানেই অনেকেই নম্বর হারায়। কিন্তু একটু নিয়ম মেনে পড়লে সহজেই এগিয়ে যাওয়া যায়।
Grammar Topics: Preposition, Article, Tense, Voice, Transformation, Narration
Vocabulary: প্রতিদিন ৫টি নতুন শব্দ মুখস্থ করো ও ব্যবহার করো বাক্যে।
Reading: BBC / The Daily Star-এর ছোট নিউজ পড়ে অনুবাদ অনুশীলন করো।
Writing Practice: প্রতিদিন ১টি Paragraph (২০০ শব্দ) লেখো - যেমন “Digital Economy of Bangladesh”, “Women Entrepreneurship”।
এটাই গ ইউনিটের প্রধান অংশ
হিসাববিজ্ঞান: Journal entry, Ledger, Trial Balance, Ratio Analysis, Accounting Equation
ম্যানেজমেন্ট: Entrepreneurship, Management principles, Motivation, Marketing Mix, Business Environment
🧾 Strategy:
প্রতিদিন অন্তত ১টি সমস্যা সমাধান করো (যেমন - লেনদেন হিসাব, balance sheet)।
সূত্রগুলো (Formulas) আলাদা নোটে লেখো, প্রতিদিন একবার করে চোখ বুলাও।
যদিও মূল বিষয় বাণিজ্য, তবুও সাধারণ জ্ঞান অংশে (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি) প্রশ্ন আসতে পারে।
📌 প্রস্তুতি নাও নিচের দিকগুলো থেকে:
বাংলাদেশ অর্থনীতি, বাজেট, ব্যাংকিং নীতি
আন্তর্জাতিক সংস্থা (IMF, WTO, World Bank, SAARC)
সাম্প্রতিক নোবেলজয়ী, জাতীয় পুরস্কার, ব্যবসায় সংক্রান্ত খবর
Resource: মাসিক “কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স”, “চর্চা অ্যাপের GK সেকশন”, “Daily Star Business Section”
MCQ অংশে ৬০ প্রশ্নের জন্য সময় থাকে মাত্র ৪৫ মিনিট - অর্থাৎ প্রতি প্রশ্নে গড়ে ৪৫–৫০ সেকেন্ড।
তাই “সময় ব্যবস্থাপনা”ই এখানে মূল চাবিকাঠি।
⌛ কৌশল:
প্রথমে সহজ প্রশ্নগুলো সমাধান করো, কঠিনগুলো পরে রাখো।
প্রতিটি মক ও মডেল টেস্টে সময় ট্র্যাক করো - কত মিনিটে কোন অংশ শেষ হচ্ছে নোট করো।
প্রতিটি ভুলের কারণ বিশ্লেষণ করো (বুঝে ভুল না মনোযোগের কারণে ভুল?)
🧩 চর্চা টিপস:
চর্চা অ্যাপে “দ্রুত প্র্যাক্টিস” অপশন ব্যবহার করো - এতে সময়ের চাপের মধ্যেও দক্ষতা বাড়বে।
লিখিত অংশে অনেকেই ভালো নম্বর পায় না কারণ তারা “উত্তর লেখার নিয়ম” বোঝে না।
তুমি নিচের টিপসগুলো মেনে চললে লিখিত অংশে সহজেই ২৫+ নম্বর পেতে পারবে।
✍️ লিখিত অংশের ৫টি Golden rules:
হাতের লেখা পরিষ্কার রাখো - অগোছালো লেখা কখনো ভালো প্রভাব ফেলে না
প্রশ্নের উত্তর সীমিত পরিসরে দাও (১৫০–২০০ শব্দ যথেষ্ট)।
প্রতিটি প্যারাগ্রাফে একটি মূল পয়েন্ট রাখো।
বানান ভুল ও ব্যাকরণে খেয়াল রাখো।
সময়ের ৫ মিনিট রেখে উত্তর রিভাইস করো।
অনেকে খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েও শেষমুহূর্তে ভয় বা মানসিক চাপের কারণে খারাপ করে ফেলে।
এই অংশটাই অনেকের জন্য “game changer”।
🧘♀️ পরীক্ষার আগের সপ্তাহে যা করবে:
ঘুম কমানো যাবে না - অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করো।
শেষ রাতে নতুন কিছু মুখস্থ নয় - কেবল রিভিশন করো।
পরীক্ষার সকালে হালকা নাস্তা খাও এবং সময়মতো কেন্দ্রে যাও।
নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখো - “আমি পারব” এই ভাবটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে সম্পূর্ণ সিলেবাস নতুন করে মুখস্থ নয়, বরং কৌশলগত রিভিশন করো।
📅 ৭ দিনের রিভিশন সূচি (উদাহরণ):
দিন | ফোকাস | কাজ |
দিন ১ | বাংলা | সাহিত্য, ব্যাকরণ রিভিশন |
দিন ২ | ইংরেজি | Grammar ও Translation প্র্যাকটিস |
দিন ৩ | হিসাববিজ্ঞান | Balance Sheet, Equation |
দিন ৪ | ব্যবসায়নীতি | Marketing, HRM, Planning |
দিন ৫ | মডেল টেস্ট ১ | সময় ধরে দাও |
দিন ৬ | মডেল টেস্ট ২ | ভুল বিশ্লেষণ |
দিন ৭ | সাধারণ রিভিশন + বিশ্রাম | হালকা পড়া ও মানসিক প্রস্তুতি |
বর্তমান ডিজিটাল যুগে গ ইউনিটের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে স্মার্ট পদ্ধতি হচ্ছে অনলাইন প্র্যাকটিস অ্যাপ।
চর্চা অ্যাপ এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিক্ষা প্রস্তুতি প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি। এখানে পাওয়া যায়-
গ ইউনিটের বিগত বছরের প্রশ্ন,
মডেল টেস্ট ও স্কোর ট্র্যাকিং সিস্টেম,
ব্যাখ্যাসহ উত্তর বিশ্লেষণ,
নিজের পারফরম্যান্স রিপোর্ট।
প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট প্র্যাকটিস করলেও তোমার দক্ষতায় স্পষ্ট উন্নতি দেখতে পাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিট কেবল একটি ভর্তি পরীক্ষা নয়- এটি হাজারো বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া একটি সুযোগ। এখানে ভর্তি হওয়া মানে শুধু পড়াশোনা নয়, বরং দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে প্রথম পদক্ষেপ।
তাই যারা নিজেদের ভবিষ্যৎকে নেতৃত্বে দেখতে চাও, আজ থেকেই শুরু করো তোমার প্রস্তুতির যাত্রা। নিয়মিত অধ্যয়ন, আত্মবিশ্বাস, ও পরিকল্পিত অনুশীলনই তোমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ঐতিহ্যবাহী গেটের ওপাশেই অপেক্ষা করছে তোমার স্বপ্নের গন্তব্য- ঢাবি গ ইউনিট, যেখানে শুরু হয় ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক যাত্রা।