
কি হলো? মন খারাপ। কোথাও চান্স পাওনি?
কোনো চিন্তা নেই। তোমার জন্য আরেকটা সুযোগ অপেক্ষা করছে। তুমি নিশ্চয়ই জানো যে, তোমার আশেপাশে অনেক কলেজ আছে। আর তার মধ্যে কিছু কলেজে অনার্স পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে থাকে। আর সেই অনার্স পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে।
হ্যাঁ বন্ধুরা, আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ বছর মেয়াদী সাধারণ অনার্স কোর্স এর কথা বলছি।
দীর্ঘ ১০-১১ বছর পর আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো ঐতিহ্য তথা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে অনার্স কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ২০২৪-২৫ সেশন থেকে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। যদি জিজ্ঞেস করা হয় বাংলাদেশের সর্বাধিক শিক্ষার্থী আছে এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, তবে উত্তর আসে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ এর মতো সিট আছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ গুলোই। এখানে বাংলা, English, আরবি, সংস্কৃত, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইসলামিক স্টাডিজ, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, নৃবিজ্ঞান, গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান, বি.এ. অনার্স ইন মিউজিক, গণিত, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, মনোবিজ্ঞান, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, ভূগোল ও পরিবেশ, আরবি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্স, মার্কেটিং এর মতো, ইত্যাদি বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদী অনার্স কোর্স বা স্নাতক(সম্মান) কোর্স আছে ।
আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা
১. ২০২২/২০২৩ সালে এসএসসি/ সমমান এবং ২০২৪/২০২৫ সালে এইচএসসি/সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান/মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পাশ করতে হবে।
২. এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে চতুর্থ বিষয় সহ ন্যূনতম জিপিএ ২.৭৫ এবং এইচএসসি/সমমানের পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয় সহ জিপিএ ২.৫ সহ সর্বমোট ন্যূনতম জিপিএ ৬.০০ থাকতে
৩. মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমানের পরীক্ষার প্রতিটিতে চতুর্থ বিষয় সহ ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ সহ ন্যূনতম মোট জিপিএ ৫.৫ থাকতে হবে
লিখিত MCQ পরীক্ষা
১. উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সর্বশেষ পাঠ্যক্রম অনুসরণে বাংলা,ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান(বাংলাদেশ বিষয়াবলী), সহ বিজ্ঞান /মানবিক/বাণিজ্য বিভাগের পঠিত যেকোন ৪টি বিষয় এর উপর ১০০ নম্বরের Multiple Choice Question (MCQ) পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বাংলা ও ইংরেজিতে প্রণীত হবে।
২. প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কোনো রকম নেগেটিভ মার্ক কর্তন করা হবে না। অর্থাৎ, এই পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং নেই। তুমি চাইলে ১০০ টি MCQ বৃত্তভরাট করতে পারবে।
গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচী ও তারিখ |
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট: https://www.nu.ac.bd/admissions লিংকে প্রবেশ করে Honours অপশনে গিয়ে Honours Admission Guideline লিংকে ক্লিক করতে হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই ভর্তি নির্দেশিকায় বিবৃত সকল শর্ত মেনে অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। প্রাথমিক আবেদন শুরু: আবেদন ফি: ৭০০/- টাকা
|
নেগেটিভ মার্কিং ও অন্যান্য:
তোমার জন্য একটি বড় সুযোগ হলো এ ভর্তি পরীক্ষায় কোনো নেগেটিভ মার্কিং নেই। ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন প্যাটার্ন সম্পর্কে একটা ধারনা দিই, ১০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষাটি তে বাংলা-২০,ইংরেজি-২০, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলী)-২০, বিজ্ঞান/মানবিক/ ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের যেকোন ৪ বিষয় হতে ৪০ নম্বর মিলিয়ে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে,সময় হলো ১ ঘন্টা।তবে, শুধু MCQ দিয়েই রেজাল্ট প্রকাশ হবেনা, এতে তোমার SSC,HSC পরীক্ষার জিপিএ নম্বর ও যোগ হয়ে সর্বমোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে ফলাফল তৈরি করা হয়।
মানবন্টন নিম্নরূপ:
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে গঠিত শাখা | বাংলা | ইংরেজী | সাধারণ জ্ঞান | প্রত্যেক শাখার জন্য আলাদাভাবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন | MCQ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার মোট নম্বর | এস.এস.সি. /সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত GPA-এর ৪০% (৪র্থ বিষয়সহ) | এস.এস.সি. /সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত GPA-এর ৬০% (৪র্থ বিষয়সহ) | সর্বমোট নম্বর |
বিজ্ঞান শাখা | ২০ | ২০ | ২০ | ৪০ | ১০০ (ভর্তি পরীক্ষার পাশ নম্বর হবে ৩৫) | ৪০ | ৬০ | ২০০ |
মানবিক/গার্হস্থ্য অর্থনীতি শাখা | ২০ | ২০ | ২০ | ৪০ | ||||
ব্যবসায় শিক্ষা শাখা | ২০ | ২০ | ২০ | ৪০ |
বিভাগীয় শহর,জেলা শহর ও উপজেলা ভিত্তিক কলেজে চান্স পেতে করণীয়
বিভাগীয় শহরের সরকারি কলেজ গুলোই প্রতিযোগিতা বেশি থাকার কারণে ২০০ নম্বরের মধ্যে তোমার ১৮০ পেলেই চান্স নিশ্চিত। অন্যদিকে জেলা শহর ও উপজেলা বা গ্রাম ভিত্তিক কলেজ গুলোই প্রতিযোগিতা তুলনামূলক মধ্যমান হওয়ার কারণে ১৫০ বা তদুর্ধ নম্বর পেলে তুমি চান্স পেতে পারো।
ভর্তি পরীক্ষা ও চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য
৪টি পর্যায়ে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় তা হলো- ১ম মেরিট,২য় মেরিট, ১ম রিলিজস্লিপ,২য় রিলিজস্লিপ। প্রাথমিক আবেদন এর ক্ষেত্রে শুধু ১টি কলেজেই আবেদন করে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে। উল্লেখ্য যে, ভর্তি পরীক্ষায় ৩৫ পেলে পাশ। কোনো কারণে ১ম ও ২য় মেরিটে চান্স না পেলে রিলিজস্লিপের আবেদনে ৫ টি কলেজ চয়েজ দিয়ে আবেদন করা যায়। বিগত ২০২৪-২৫ সেশনের সার্কুলারে ভর্তি পরীক্ষায় সাবজেক্টিভ পাশমার্ক উল্লেখ না থাকলেও সাবধানতা অবলম্বন সাপেক্ষে প্রতিটি বিষয়ে আলাদা করে পাশ মার্ক তোলার টার্গেট মাথায় রেখে পরীক্ষা দেওয়া উত্তম।তবে তোমার একটা বিশেষ দিক বিবেচনায় রাখতে হবে আর তা হলো তুমি MCQ পরীক্ষায় ৩৫ না পেলে ফেইল হিসেবে গণ্য হবে এবং তুমি সেই সেশনে কোনো কলেজেই অনার্স কোর্সে ভর্তি হতে পারবেনা।
নতুন ভর্তি ও পূর্ববর্তী ভর্তি বাতিল
ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে তুমি যদি কোনো সাবজেক্ট এর অনার্স কোর্সে চান্স পেয়ে যাও তবে তুমি যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী সেশনে যদি কোনো(অনার্স/ ডিগ্রী পাস) কোর্সে ভর্তি হয়ে থাকো তবে অবশ্যই সেই ভর্তিটি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্টে প্রাপ্ত তোমার কাঙ্ক্ষিত অনার্স কোর্স এর সাবজেক্ট টি তে ভর্তি হতে হবে।কারণ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম হলো তুমি যদি নতুন কোনো সাবজেক্ট এ অনার্সে চান্স পেয়ে যাও তবে সে সাবজেক্টে ভর্তি হতে চাইলে ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্টের পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের সেশনে যেই কোর্সে তোমার ভর্তি আছে, সেই কোর্সের ভর্তিটা বাতিল বা Cancel করতে হবে- এটা তুমি যে কলেজে আগে ভর্তি ছিলে সে কলেজে যোগাযোগ করে করতে পারবে।
চর্চা-Chorcha কীভাবে তোমার এই পরীক্ষায় সহযোগী হতে পারে -
Competitive Exam গুলোতে ভালো করতে হলে চর্চার কোনো বিকল্প নেই। দিনে অন্তত দুটি পরীক্ষা দিতে পারলে আশা করা যায় তোমার কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে চান্স নিশ্চিত করতে পারবে, ইন শা আল্লাহ। তোমার কাঙক্ষিত সাবজেক্ট এ চান্স নিশ্চিত করতে আজই চর্চা-Chorcha Apps এর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা Exam Batch কোর্স এনরোল করে নাও। এতে রয়েছে বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন এবং নতুন সংযোজন এর মাধ্যমে তৈরিকৃত একটি পূর্ণাঙ্গ Exam Schedule Plan যা তোমার মেধাকে আরো শানিত করে তুলতে সাহায্য করবে এবং এনে দিতে পারে তোমার স্বপ্নের কলেজে ভালো সাবজেক্টে চান্স।
ক্যারিয়ার গড়তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সফলতা
ক্যারিয়ার গড়তে হলে কোনো নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ সমূহে পড়েও তুমি ভালো ক্যারিয়ার গঠন করতে পারবে। এজন্য চাই কঠোর পরিশ্রম,আত্মবিশ্বাস ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ সমূহে অনার্স-মাস্টার্স করে BCS,NTRCA,Other Government Jobs,Gov’t/Non-Gov’t Bank Job,Multinational Company সহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে চাকরি করা যায়।এবার ৪৪তম বিসিএসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫০ জনেরও বেশি ক্যাডার হয়েছেন। সরকারি আজিজুল কলেজ (বগুড়া): ৬ জন ক্যাডার, রাজেন্দ্র কলেজ (ফরিদপুর): ৫ জন ক্যাডার, রাজশাহী কলেজ: ৬ জন ক্যাডার, আনন্দমোহন কলেজ (ময়মনসিংহ): ৭ জন ক্যাডার,সরকারি এম এম কলেজ (যশোর): ১০ জন ক্যাডার, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ: ২ জন ক্যাডার,খুলনা বিএল কলেজ হতে ৮ জন ক্যাডার হয়েছে এমন খবর পাওয়া গেছে। এরকম আরো থাকতে পারে। উল্লেখ্য যে,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া-এর সাবেক শিক্ষার্থী জনাব মোঃ মাহবুবুর রহমান ২৯তম বিসিএস এ পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছিলেন।
উপসংহার - (শেষ কথা যা অন্তত গুরুত্বপূর্ণ)
পড়াশোনা সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা গুলো নেওয়া হয় মূলত লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীকে বাছাই করে নেওয়ার জন্য, তাই প্রাকটিস এর কোনো বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এডমিশন প্রশ্নব্যাংক বারবার রিভিশন দেওয়া উচিত এবং এর সেরা মাধ্যম হতে পারে চর্চা-Chorcha App । ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সম্মানজনক এবং ভালো চয়েজ। অর্থাৎ, তুমি ধরে নিতে পারো তুমি দেশের সর্ববৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই ভর্তি হয়েছো। একটা বিষয় মনে রাখবা যে, বিশ্ববিদ্যালয় কাউকে সম্মানিত করেনা বরং একজন ছাত্র তাঁর মেধা,পরিশ্রম ও সফলতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। তাই বলতেই হয়, “পড়ো তোমার প্রভুর নামে,যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন “। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক সকল শিক্ষার্থীবন্ধুদের প্রতি শুভকামনা জানাই।